সিলেটে যেভাবে তৈরি হচ্ছে অ স্ত্র, নে প থ্যে কা রা?
নিজস্ব প্রতিবেদক
সীমান্ত পেরিয়ে চোরাকারবারিদের মাধ্যমে আসছে পাখি শিকারের এয়ারগান। আর ওপারে এসে সন্ত্রাসীদের হাতে সেটি পরিণত হচ্ছে মানুষ মারার অস্ত্রে। সম্প্রতি র্যাবের অভিযানে এয়ারগান পরিবর্তন করে তৈরি করা কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এরপর থেকে সিলেটে এয়ারগান হয়ে ওঠেছে আতঙ্কের অস্ত্র। এয়ারগান পরিবর্তন করে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির নেপথ্যে কোন চক্র আছে কি-না সেটির সন্ধানে নেমেছে র্যাব।
সিলেট জেলার তিনদিকে ভারত সীমান্ত। রয়েছে অস্ত্র চোরাচালানের কয়েকটি রুট। বিভিন্ন সময় এসব সীমান্ত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশের সময় ধরাও পড়েছে। সম্প্রতি চোরাকারবারিরা সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে পশু-পাখি শিকারের কাজে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ এয়ারগান। গেল এক বছরে র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের অভিযানে প্রায় অর্ধশত এয়ারগান জব্দ হয়েছে।
বন্য প্রাণী ও পাখি সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০২১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দেশে এয়ারগান ব্যবহার ও বহন নিষিদ্ধ করে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ূ পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ওই দিন প্রজ্ঞাপন জারি করে এয়ারগান নিষিদ্ধ করে। দেশে ব্যবহার নিষিদ্ধ অবস্থায় ভারত থেকে আসা এয়ারগান কোন কাজে ব্যবহৃত হয়- এটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনমনে ছিল নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ।
সম্প্রতি র্যাবের অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে কয়েকটি পাওয়া গেছে যেগুলো তৈরি করা হয়েছে এয়ারগান পরিবর্তন করে। পাখি শিকারের এয়ারগানকে পরিবর্তন করে রীতিমতো মানুষ মারার অস্ত্রে পরিণত করেছিল সন্ত্রাসী চক্র।
সর্বশেষ গত ২০ নভেম্বর ভোর রাতে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের জলঢুপ কালিবহর এলাকার বাঁশঝাড় থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় র্যাব একটি দেশিয় তৈরি ১২ বোরের শর্টগান উদ্ধার করে। র্যাব জানায়, নাশকতার কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এয়ারগান পরিবর্তন করে ওই শর্টগানটি তৈরি করা হয়েছিল। এর আগে গত অক্টোবর মাসে বালাগঞ্জের একটি কৃষি খামারের অফিস থেকে একইভাবে এয়ারগান পরিবর্তন করে তৈরি করা একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে র্যাব।
এদিকে, গত এক বছরে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি প্রায় অর্ধশত এয়ারগান উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে কোনটি ব্যবহৃত, আবার কোনটি সীমান্ত পেরিয়ে আনা একবারেই নতুন ছিল। তবে সবগুলো এয়ারগানই পাওয়া গেছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। এয়ারগানের সাথে কোন অপরাধীকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
গত সোমবার রাতে বিয়ানীবাজারের ছোটদেশ গ্রামের একটি আগর বাগান থেকে ১২৫ রাউন্ড গুলিসহ ১টি এয়ারগান ও একই গ্রামের একটি বাঁশঝাড় থেকে আরো একটি এয়ারগান উদ্ধার করে র্যাব। গত রবিবার র্যাব-৯ এর পৃথক অভিযানে ৩টি এয়ারগান ও ৪০৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গত ৪ আগস্ট সিলেটের জাফলং সীমান্ত এলাকা থেকে অত্যাধুনিক ৪টি এয়ারগান উদ্ধার করে বিজিবি।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, এয়ারগান পরিবর্তন করে তৈরি করা কয়েকটি শটগান বিভিন্ন সময় উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে এয়ারগানও উদ্ধার করেছে র্যাব। এয়ারগান পরিবর্তন করে শটগান তৈরির নেপথ্যের অপরাধীদের সনাক্ত করতে র্যাব কাজ করছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ